Header Ads

ক্যারিয়ার হিসেবে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং


বর্তমান যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে বিশ্বায়ন। যার অর্থ বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পরিবেশের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের সমন্বয় সাধন। এই সমন্বয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজিটি হল কম্পিউটার টেকনোলজি। কম্পিউটার টেকনোলজি আমাদের ইন্টারনেটের ব্যবহার নিশ্চিত করে যার মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের যে কোন জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ই-কমার্স, ই-বিজনেস, ই-ব্যাংকিং, ই-পুলিশ ব্যবস্থা সম্ভব শুধুমাত্র কম্পিউটার টেকনোলজি উন্নয়নের মাধ্যমে।

কম্পিউটার সায়েন্সে কি কি টপিক পড়তে হবে এখন আমরা এক এক করে দেখি । টপিকগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আমরা জেনে নিব।

#প্রোগ্রামিং: কম্পিউটার সায়েন্স বললে অবধারিত ভাবে প্রথমে চলে আসে প্রোগ্রামিং। প্রোগ্রামিং হলো কম্পিউটারকে কথা শুনানোর উপায়, বোকা কম্পিউটারকে দিয়ে ইচ্ছামত কাজ করিয়ে নেয়া। কম্পিউটার যেহেতু মানুষের ভাষা বুঝেনা তাকে বোঝাতে হয় বিশেষ ভাষায় যাকে বলে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ।

#অ্যালগোরিদম: আপনি কি জানো কিভাবে বড় একটা ফাইলকে কমপ্রেস করে সাইজ কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়? গুগল কিভাবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে চোখের পলকে দরকারি ডাটা খুজে আনে? কিভাবে লাখ লাখ টেরাবাইটের ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে খুজে বের করা হয় জীবনের রহস্য? এধরণের প্রবলেম সলভিং এর হাতেখড়ি হয় অ্যালগোরিদম কোর্সে।

#ডাটা স্ট্রাকচার: ফেসবুক কিভাবে এত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে? এলোমেলো ভাবে সংরক্ষণ করলে তাড়াতাড়ি খুজে পাওয়া সমস্যা, তাই তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক আছে। ড্রয়ারে লেভেল করে কাগজপত্র রাখলে যেমন সহজে খুজে পাওয়া যায় তেমনি কিছু নির্দিষ্ট স্ট্রাকচার ফলো করে ডাটা সেভ করলে সহজে সেটা কাজের সময় পাওয়া যায়। ডাটা স্ট্রাকচার কোর্সে এগুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।
অ্যালগোরিদম এবং ডাটা স্ট্রাকচার হলো কম্পিউটার সায়েন্সের মূল ভিত্তি, প্রতিটা টপিকে এগুলো কাজে লাগে।

#গণিত: কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টদের ভালো গণিত জানার দরকার হয়। এটার কারণটা সবার কাছে পরিস্কার না। নতুন অ্যালগোরিদম বা ডাটা স্ট্রাকচার ডিজাইন করার সময় এগুলো কতটা ভালো কাজ করবে সেটা নির্ধারণ করতে গণিত দরকার হয়।

#অপারেটিং সিস্টেম এবং সিস্টেম প্রোগ্রামিং: এখানে শিখানো হয় কিভাবে অপারেটিং সিস্টেম কাজ করে। তবে তারমানে এই না যে উইন্ডোজ চালানো শেখানো হয়! এখানে শিখায় অপারেটিং সিস্টেমের ইন্টারনাল স্ট্রাকচার কিরকম। কম্পিউটারে একই সাথে ১০টা কাজ করলে অপারেটিং সিস্টেমকে ১০টা কাজের জন্য বিশেষ শিডিউল তৈরি করতে হয়, সেগুলো এখানে শিখানো হয়।

#ডাটাবেস: ওয়েবসাইট বা বড়বড় সফটওয়্যার বিশাল ডাটা রাখে “ডাটাবেস” এর ভিতর। ডাটাবেসে কিভাবে ডাটা রাখতে হয়, কিভাবে সেখান থেকে ডাটা নিয়ে আসতে হয় ইত্যাদি নিয়ে এই কোর্স।

#আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এ.আই): নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে কি নিয়ে এই কোর্স, থিসিসের জন্য খুবই পপুলার একটা টপিক এটা। কিভাবে রোবটকে দিয়ে কাজ করানো যায়, গেমের ক্যারেক্টার নিজে নিজে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, কম্পিউটার কিভাবে দাবা খেলে এই ধরণের দারুণ ইন্টারেস্টিং সব টপিক এ.আই এর ।

#কম্পাইলার: সাদামাটা ভাষায় কম্পাইলার জিনিসটার কাজ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজকে মেশিন ভাষায় পরিণত করা যাতে হার্ডওয়্যার সেটা বুঝতে ।

#গ্রাফিক্স: আমরা কম্পিউটার গেমস বা অ্যানিমেটেড মুভিতে এত সুন্দর গ্রাফিক্স দেখি তার পিছনে আছে প্রচুর ম্যাথমেটিকাল থিওরী। যেমন গেমসে লাইটিং, শেডিং কিভাবে বাস্তবসম্মত করা যায় তার পিছনে আছে অনেক থিওরী। গেমারদের কাছে প্রচলিত শব্দ “এন্টি এলিয়াসিং”, “শেডিং” ইত্যাদি সম্পর্কে এই টপিকে বিস্তারিত পড়ানো হয়। প্রচুর জ্যামিতি দরকার হয় এখানে।

#নেটওয়ার্কিং: কিভাবে একটা কম্পিউটারকে আরো ১০ কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করতে হয়, কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করে, কিভাবে নেটওয়ার্কে ডাটা প্যাকেট পাঠানো হয় এবং অন্য প্রান্তে রিসিভ করা হয় ইত্যাদি শেখানো হয়।

#ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম: অনেকেই হয়তো জানেন বড় বড় যেসব কাজে অনেক মেমরি, শক্তি দরকার হয় সেসব কাজে অনেকগুলো কম্পিউটারকে একসাথে ব্যবহার করে কাজ করা হয়। বড় বড় রিসার্চের কাজ এভাবে করা হয়, ওয়েবসাইটগুলোতেও অনেকগুলো সার্ভার একসাথে কাজ করে। কিভাবে ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম ডিজাইন করা যায় সেটা নিয়েই এই কোর্স।

#সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং: আধুনিক সফটওয়্যার ডিজাইনের টেকনিক পড়ানো হয় এই টপিকে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে সম্ভবত এটা নেই।

ক্যারিয়ার ক্ষেত্র
===========
***যারা প্রোগ্রামিংএ অনেক ভাল তাদের জন্যঃ Mobile Application Developer***
(ios, android etc) শিখে সিস্টেম বিশ্লেষক এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, বিশ্লেষক প্রোগ্রামার,অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামার,ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যানেজার,সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ বিশ্লেষক, সফটওয়্যার কোয়ালিটি ম্যানেজার,কম্পিউটার অপারেশন ম্যানেজার, অপারেশন গবেষণা বিশ্লেষক, ইলেকট্রনিক ডেটা প্রসেসিং ম্যানেজার,ডাটাবেস পরিচালকরা ওকাস্টমাইজিং এর মাধ্যমে সফটওয়্যার ব্যবহার সহজীকরন এবং তথ্য প্রবাহ পরিচালনার কাজে চাকুরী করতে পারেন। দিনে দিনে এই চাকরির বাজারটি বড় হচ্ছে।

***যারা প্রোগ্রামিংএ মোটামুটি তাদের জন্যঃ PHP ,ASP.net, C#.net ইত্যাদি*** যেকোন একটি ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে Web developer হতে পারেন।

***যাদের প্রোগ্রামিংএ ভয় তাদের জন্যঃ Networking***
Networking শিখে আপনি মোবাইল কোম্পানি, ব্যাংক,এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি,শেয়ার মার্কেট,মাল্টিন্যাশনাল ও ন্যাশনাল কোম্পানি, বায়িংহাউজ অর্থাৎ যেখানে কম্পিউটার নেটওর্য়াক আর ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় সেখানেই রয়েছে চাকরি করার সুযোগ পাবেন।
অথবা আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ভাল কোন জব অথবা ফ্রীলাঞ্চিং করে আপনার ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে পারেন।

 

আপনার ক্যারিয়া গঠন করতে আমরা সহায়তা করবো, ইনশাআল্লাহ-

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

### উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার

মৌলভীবাজার সদর। 

01771 911 211

 

কম সময়ে জ্ঞানমূলক আরো অনেক কিছু জানতে নিছের YouTube এ ক্লিক দিন-

YouTube

No comments

অন্যান্য পোস্টসমূহ দেখুন-

Powered by Blogger.